আলু গাছকে রোগ ও পোকামাকড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে স্প্রে করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নিয়ম মেনে স্প্রে করলে গাছ ভালোভাবে বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদন বাড়ে।
স্প্রে করার সঠিক পদ্ধতি:
গাছের কান্ড ও পাতা ভিজিয়ে স্প্রে করুন:
স্প্রেয়ার ব্যবহার করে এমনভাবে স্প্রে করতে হবে যাতে গাছের প্রতিটি অংশ ভিজে যায়।
সকালে বা বিকালে স্প্রে করুন:
দিনের ঠান্ডা সময় স্প্রে করা উচিত, যাতে রাসায়নিক দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং কার্যকারিতা বজায় থাকে।
স্প্রেয়ারের নজেল নিচের দিকে ধরে স্প্রে করুন:
গাছের পাতার নিচের দিকেও স্প্রে করতে হবে কারণ অনেক পোকা ও রোগ পাতার নিচের অংশে লুকিয়ে থাকে।
প্রতি শতক জমিতে ২ লিটার মিশ্রিত স্প্রে ব্যবহার করুন:
জমির আকার অনুযায়ী স্প্রের পরিমাণ ঠিক করুন।
কোন কোন বয়সে স্প্রে করা দরকার?
আলুর গাছের বয়স অনুযায়ী স্প্রে করার সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:
প্রথম স্প্রে (১৫-২০ দিন বয়স):
গাছের প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক এবং ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করুন।
দ্বিতীয় স্প্রে (২৫-৩০ দিন বয়স):
ম্যানকোজেব ও পাইরাক্লোস্ট্রোবিন সমন্বিত ছত্রাকনাশক এবং ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক প্রয়োগ করুন।
তৃতীয় স্প্রে (৩৫-৪০ দিন বয়স):
ছত্রাক ও মাকড়নাশক প্রয়োগ করে গাছের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।
চতুর্থ স্প্রে (৪৫-৫০ দিন বয়স):
লেট ব্লাইট প্রতিরোধে ডাইমেথোমর্ফ এবং সাইমোক্সানিল সমন্বিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন।
পঞ্চম স্প্রে (৫৫-৬০ দিন বয়স):
পুষ্টি উপাদান যোগ করতে ক্লোরোথেলোনিল ও পটাশ সার সমন্বিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করুন।
ষষ্ঠ স্প্রে (৬০+ দিন):
জৈব উত্তেজক ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট প্রয়োগ করে গাছের বৃদ্ধি ও উৎপাদন বৃদ্ধি করুন।
বাড়তি টিপস:
• ৭-১০ দিন অন্তর স্প্রে করুন: রোগ প্রতিরোধ ও পোকামাকড় দমনে নিয়মিত স্প্রে করুন।
• লেট ব্লাইট আক্রান্ত হলে ৫-৬ দিন অন্তর স্প্রে করুন।
• একই ছত্রাকনাশক বারবার ব্যবহার করবেন না: বিভিন্ন ছত্রাকনাশক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করুন।
• অতিরিক্ত সেচ এড়িয়ে চলুন: জমিতে পানি জমতে দেবেন না।
সঠিক নিয়ম মেনে স্প্রে করলে আলুর গাছ সুস্থ থাকবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
উদ্ভিদ এগ্রো সার্ভিস is proudly powered by WordPress